দ্বিতীয় খণ্ড
রামাৎ সাধনা
জয়
জয় রামকৃষ্ণ বাঞ্ছাকল্পতরু ।
জয় জয় ভগবান জগতের গুরু ॥
জয় জয় গুরুমাতা জগৎ-জননী ।
রামকৃষ্ণভক্তিদাত্রী চৈতন্যদায়িনী ॥
জয় জয় রামকৃষ্ণ ইষ্টগোষ্ঠীগণ ।
সবার চরণরেণু মাগে এ অধম ॥
রামকৃষ্ণলীলা-কথা শ্রবণমঙ্গল ।
গাইলে শুনিলে করে চিত নিরমল ॥ ১ ॥
ভীষণ ত্রিতাপ পাপ বিঘ্ন বাধা দূর ।
পায় সুশীতল জল যেবা তৃষাতুর ॥ ২ ॥
রামাৎ সাধনে মন করিলেন স্থির ।
দিবানিশি এক চিন্তা কোথা রঘুবীর ॥ ৩ ॥
রাম ধ্যান রাম জ্ঞান রাম রত্নরাশি ।
দূর্বাদলশ্যাম রাম কেবল প্রয়াসী ॥ ৪ ॥
রামনাম অবিরাম বদনে বেরায় ।
সচঞ্চল ভ্রাম্যমাণ হেথায় সেথায় ॥ ৫ ॥
রামনামে কণ্ঠরোধ চক্ষে ঝরে জল ।
বিরহযন্ত্রণা হৃদে এতই প্রবল ॥ ৬ ॥
রামভক্ত সন্নিকটে রহে যে যেখানে ।
সময় বুঝিয়া যান তা সবার স্থানে ॥ ৭ ॥
শ্রীকৃষ্ণকিশোর নাম চাটুয্যে ব্রাহ্মণ ।
দক্ষিণশহরে বাস রামপদে মন ॥ ৮ ॥
রামায়ণ-পাঠ ঘরে হয় নিতি নিতি ।
রামনাম জপে যায় গোটা গোটা রাতি ॥ ৯ ॥
শুনিয়া তাহার কথা প্রভু গুণাকর ।
আসা যাওয়া করিতেন ব্রাহ্মণের ঘর ॥ ১০ ॥
রামের পরম ভক্ত করি দরশন ।
করিলেন ব্রাহ্মণের চিত্ত আকর্ষণ ॥ ১১ ॥
ব্রাহ্মণ বড়ই খুশী পেয়ে তাঁয় ঘরে ।
অপার আনন্দ এত হৃদয়ে না ধরে ॥ ১২ ॥
নবীন যুবক বয়ঃ তিরিশ বৎসর ।
অনুরাগ কান্তি মাখা সর্বাঙ্গ সুন্দর ॥ ১৩ ॥
ঢলঢল বাঁকা আঁখি সুঠাম মুরতি ।
সমভক্তিমান তায় শ্রীরামের প্রতি ॥ ১৪ ॥
প্রাণেশ দিনেশ-করে কান্তি নিরমল ।
অবশ হইয়া ফুটে কলিকা কমল ॥ ১৫ ॥
ছড়াইয়া শতদল কেশরনিচয় ।
প্রভুকে দেখিয়া তেন দ্বিজের হৃদয় ॥ ১৬ ॥
কভু অনিমিখে আঁখি করে বরশন ।
অনুপম রূপাকর প্রভুর বদন ॥ ১৭ ॥
ভক্তিমতী ব্রাহ্মণী গৃহিণী ঘরে তাঁর ।
প্রভুরে করেন দোঁহে বাৎসল্য আচার ॥ ১৮ ॥
সুমিষ্ট ভোজনদ্রব্য যবে যাহা জুটে ।
প্রভুর কারণে অতি যতনে আকুটে ॥ ১৯ ॥
ভকতপরাণ প্রভুদেব দয়াময় ।
ব্রাহ্মণীরে হইলেন বড়ই সদয় ॥ ২০ ॥
যে বলে প্রভুরে চিনে রাম নারায়ণ ।
মহাভাগ্যবতী সতী আরাধ্যচরণ ॥ ২১ ॥
ব্রাহ্মণ যদ্যপি কভু মায়াবশে ভুলে ।
নরজ্ঞানে প্রভুদেবে কোন কথা বলে ॥ ২২ ॥
অমনি ব্রাহ্মণী কন আপন পতিরে ।
ভ্রান্ত এত কিবা কথা কও তুমি কারে ॥ ২৩ ॥
চিনিতে না পারিতেছ কেবা এই জন ।
বাহ্যরূপান্তরে সেই কৌশল্যা-নন্দন ॥ ২৪ ॥
ভাগ্যবান ভাগ্যবতী ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণী ।
ভবনে বসিয়া পায় অখিলের স্বামী ॥ ২৫ ॥
কাতরে অধম করে মিনতি চরণে ।
প্রভুপদে রহে মতি ভিক্ষা দেহ দীনে ॥ ২৬ ॥
রাম লাগি প্রভুদেব চিন্তায় অস্থির ।
আহার বিরাম নাই কিসে রঘুবীর ॥ ২৭ ॥
পাইবেন এই চিন্তা মনে অনুক্ষণ ।
আরম্ভ করিলা এবে সাধন-ভজন ॥ ২৮ ॥
পুরীর উত্তরে এক বটবৃক্ষমূলে ।
জপ ধ্যান শ্রীপ্রভুর অবিরত চলে ॥ ২৯ ॥
দাস্য সখ্য নানা ভাবে করেন সাধন ।
যখন যেমন হয় হৃদে জাগরণ ॥ ৩০ ॥
দাস্যেতে হনুর ভাবে সতত বিভোর ।
মহাবেগে ভাবাবেগ দেহে করে জোর ॥ ৩১ ॥
প্রভুর শ্রীদেহে ধরে সৃষ্টিছাড়া রীতি ।
দেহ হয় ঠিক যেন মনের প্রকৃতি ॥ ৩২ ॥
যে ভাব যখন হয় মনেতে প্রবল ।
ঠিক তার অনুরূপে তনুর বদল ॥ ৩৩ ॥
বুঝনে না যায় কিছু প্রভুর গতিক ।
যেই চক্ষে ছয় মাস রহে অনিমিখ॥ ৩৪ ॥
সেই চক্ষু চঞ্চল পলক প্রতিপলে ।
এক লক্ষ্যে ধাবমান ভাবের প্রাবল্যে ॥ ৩৫ ॥
ধীর মন্দ পাদক্ষেপে যাঁহার গমন ।
এবে বর্তমানে গতি দিয়া উল্লম্ফন ॥ ৩৬ ॥
বস্ত্রের লাঙ্গুল-বাস বাহিরে বাহিরে ।
কভু হয় মুত্রত্যাগ বৃক্ষের উপরে ॥ ৩৭ ॥
এই দেখি হলধারী সর্বজনে কয় ।
বায়ুরোগে গদাধর উন্মত্ত নিশ্চয় ॥ ৩৮ ॥
ভাবাবেগে কর্ম তাঁর কে করিবে রোধ ।
লোকে জনে কবে কিবা কিছু নাই বোধ ॥ ৩৯ ॥
ক্ষুধা নিবারণে খোলা খোসা সহ ফল ।
তৃষ্ণায় ওষ্ঠের দ্বারা পান গঙ্গাজল ॥ ৪০ ॥
করজোড়ে জানু গেড়ে জয় রাম ধ্বনি ।
কাকুতি মিনতি শত লুটায়ে অবনী ॥ ৪১ ॥
দাস্যভাবে কিছুদিন হইলে বিগত ।
উদিল অপর ভাব ভরতের মত ॥ ৪২ ॥
এখন দেহের নাই পূর্ববৎ ধারা ।
সহজ যেমন দেখে লাগে চমৎকারা ॥ ৪৩ ॥
ভাব অনুমত হয় দেহের গড়ন ।
একরূপে বহুরূপী আশ্চর্য কথন ॥ ৪৪ ॥
কাঠের পাদুকা-সেবা এবে নিরন্তর ।
স্থাপিয়া পাদুকা দুটি খাটের উপর ॥ ৪৫ ॥
সচন্দন ফুলে পূজা অনুরাগাবেশে ।
দর দর চক্ষু জলে বক্ষ যায় ভেসে ॥ ৪৬ ॥
পাদুকা সহিত খাট করিয়া মাথায় ।
কাঁদিয়া কাঁদিয়া প্রভু বেড়িয়া বেরায় ॥ ৪৭ ॥
মুখে রাম কোথা রাম হা রাম যো রাম ।
কবে পাব অযোধ্যায় রাম প্রাণারাম ॥ ৪৮ ॥
বিরহ খেদোক্তি কত শুনে প্রাণ ফাটে ।
এইরূপে দুই তিন চারি দিন কাটে ॥ ৪৯ ॥
ধন্য নর-বেশে লীলা বুঝে কোন্ জনে ।
তুমি রাম তুমি সীতা তবু কাঁদ কেনে ॥ ৫০ ॥
কিসের লাগিয়া কাঁদ, কাঁদ কার তরে ।
নাহি বুঝি কি রহস্য ইহার ভিতরে ॥ ৫১ ॥
যদি বল জীবশিক্ষাহেতু আচরণ ।
জীবে দেখি রাম লাগি করিবে রোদন ॥ ৫২ ॥
নিবেদন আছে এক কহি তব ঠাঁই ।
করুণা করিয়া কহ জগৎগোসাঁই ॥ ৫৩ ॥
ধরা থেকে অতি দূর শূন্যের উপর ।
কেমনে জনমে জল ডাবের ভিতর ॥ ৫৪ ॥
কারিগর কহ কেবা শকতি কাহার ।
কি কলে কৌশলে ফলে জলের সঞ্চার ॥ ৫৫ ॥
তুমি বিনা এ কলের কর্তা কেহ নয় ।
হাতে কি লইয়া জল দিতে তায় হয় ॥ ৫৬ ॥
না কি জনময়ে জল কৌশলের জোরে ।
বিধিমতে শস্যে পূর্ণ ফলে করিবারে ॥ ৫৭ ॥
যদি এত কারিগুরি সঙ্কেতেই চলে ।
কেন জীবে না কাঁদিবে রাম রাম ব'লে ॥ ৫৮ ॥
যদি বল সশরীরে হই অবতরি ।
ধনরত্ন ভক্তি মুক্তি করি ছড়াছড়ি ॥ ৫৯ ॥
তবু এক নিবেদন আছে শ্রীচরণে ।
সকল ঝিনুকে মুক্তা না জনমে কেনে ॥ ৬০ ॥
সকলেই থাকে সেই সাগরের নীরে ।
কেহ মাংসময়গর্ভ কেহ মুক্তা ধরে ॥ ৬১ ॥
অবোধ্য অচিন্ত্য যেন তুমি নিজে হরি ।
লীলাখেলা কার্য তব সেই মত ধরি ॥ ৬২ ॥
অসীম অনন্ত তুমি বুঝে সাধ্য কার ।
বুঝাবুঝি কার্য নহে মম অধিকার ॥ ৬৩ ॥
চরণ সেবার রব এই সাধ করি ।
রতি মতি দেহ পদে কল্পতরু হরি ॥ ৬৪ ॥
রামরূপ-ধ্যান মুখে রামনাম-ধ্বনি ।
সমান ধারার যায় দিবস-যামিনী ॥ ৬৫ ॥
প্রভুর সাধনা হয় যে ভাবে যে কালে ।
সেই সে ভাবের সাধু জুটে দলে দলে ॥ ৬৬ ॥
রানীর অতিথিশালা সাধুরাজ্যে জানা ।
কত যে আসেন সাধু না হয় গণনা ॥ ৬৭ ॥
এবে রামাতের পালা বৈষ্ণব সাধক ।
রামমন্ত্রে উপদিষ্ট রাম-উপাসক ॥ ৬৮ ॥
তে সবার মধ্যে এক অনুরাগী জন ।
জটাধারী নাম ভক্ত রামপদে মন ॥ ৬৯ ॥
ভক্তিনিষ্ঠা ত্যাগে তেঁহ সাধকপ্রবর ।
প্রভুর পড়িল লক্ষ্য তাঁহার উপর ॥ ৭০ ॥
বাল রামচন্দ্র-মন্ত্রে আছিল দীক্ষিত ।
সেব্যর প্রতিমা সঙ্গে পিতলে গঠিত ॥ ৭১ ॥
সাধুর সোহাগে রাখা রামলালা নাম ।
সেই সে সাধুর ছিল গন মন প্রাণ ॥ ৭২ ॥
ভিক্ষালব্ধ যাহা কিছু যোগাড়ে পাইত ।
রেঁধে বেড়ে ঠাকুরের ভোগ লাগাইত ॥ ৭৩ ॥
লোকে যেন দেয় ভোগ এ ভোগ সে নয় ।
এ ভোগ সে ভোগ যাহে সেব্য সেবা হয় ॥ ৭৪ ॥
একনিষ্ঠা একমন একান্তানুরাগে ।
থাকিত ভক্তির ক্ষীর মাখামাখি ভোগে ॥ ৭৫ ॥
তার সঙ্গে সুমধুর বাৎসল্যের রস ।
যাহে ছিল ননীচোরা যশোদার বশ ॥ ৭৬ ॥
সাধুর নিকটে সেই ভাবে রামলালা ।
খায় দায় কাছে থাকে করে নানা খেলা ॥ ৭৭ ॥
এ দাও ও দাও বলি আবদার জোর ।
দেখিয়া আনন্দে সাধু থাকিত বিভোর ॥ ৭৮ ॥
ভাবরাজ্যেশ্বর প্রভু তাঁহার গোচর ।
রহিল না বাকি কিছু জানিতে খবর ॥ ৭৯ ॥
দিন রাত্রি এইখানে থাকেন ঠাকুর ।
রঙ্গ রহস্যাদি যত দেখেন সাধুর ॥ ৮০ ॥
বালরামও প্রভুদেবে দেখে নিরখিয়ে ।
পদ্মপলাশের মত আঁখি দুটি দিয়ে ॥ ৮১ ॥
সাধুর উপরে প্রভু অতি যত্নবান ।
সেবাযোগ্য ভাণ্ডারাদি দুবেলা যোগান ॥ ৮২ ॥
সুঠাম সে বালরাম দূর্বাদল বর্ণ ।
কনককুগুলে সুশোভিত দুটি কর্ণ ॥ ৮৩ ॥
গলায় মতির হার অঙ্গ সুশোভন ।
মধুময় বালচেষ্টা মনবিরঞ্জন ॥ ৮৪ ॥
অপার ভাবের ভাবী প্রভু ভাবময় ।
ব্যাপারে বাৎসল্যভাবে ভরিল হৃদয় ॥ ৮৫ ॥
বালরাম মন্ত্রদীক্ষা লইবার তরে ।
একদিন প্রভুদেব কহেন সাধুরে ॥ ৮৬ ॥
শুনি সাধু জটাধারী ভারি আনন্দিত ।
বালরাম মন্ত্রে কৈল প্রভুকে দীক্ষিত ॥ ৮৭ ॥
প্রভুর পড়িল প্রীতি সাধুর ঠাকুরে ।
পরস্পর ঘনিষ্ঠতা দিনে দিনে বাড়ে ॥ ৮৮ ॥
পাকিয়া পিরীত উঠে গেল এত দূর ।
প্রভুর ছাওয়াল হৈল সাধুর ঠাকুর ॥ ৮৯ ॥
সদা কাছে আগে পিছে কভু কোলে কাঁখে ।
সাধুর নিকটে নাহি পূর্ববৎ থাকে ॥ ৯০ ॥
খাবারও সময় সাধু ডাকিয়া না পায় ।
প্রভুর মন্দির থেকে ধরে নিয়ে যায় ॥ ৯১ ॥
না মানে নিষেধবাক্য শত তিরস্কারে ।
বরঞ্চ শুনিয়া কত মুখভঙ্গি করে ॥ ৯২ ॥
বলে আর তোমার নিকট নাহি রব ।
খেলাধুলা খাওয়া মাখা এখানে করিব ॥ ৯৩ ॥
ঠাকুরের প্রতি ছিল সাধুর যে প্রেম ।
যথার্থ খাদশূন্য যেন নিকষিত হেম ॥ ৯৪ ॥
খাঁটি ভালবাসা প্রেম নহে স্বার্থসুখ ।
প্রেমাস্পদে তাই দেয় যাহে তার সুখ ॥ ৯৫ ॥
প্রভুদেবে রামলালা করি সমর্পণ ।
বলে রহ রামলালা যাঁহা তোর মন ॥ ৯৬ ॥
বিরাগজনিত প্রেম ফুলের সৌরভ ।
ব্রজগোপিকার জ্ঞাপ্য অতীব দুর্লভ ॥ ৯৭ ॥
পেয়ে প্রভু রামলালে পরম সুন্দর ।
স্নেহেতে বিভোরচিত্তে সোহাগ আদর ॥ ৯৮ ॥
লালন-পালন যত্ন হয় দিবারাতি ।
ছাওয়ালে না পারে এত করিতে প্রসূতি ॥ ৯৯ ॥
সোহাগে দুরন্ত বড় হৈল রামলালা ।
রোধে ছুটে জল ঘাঁটে ধূলা মেখে খেলা ॥ ১০০ ॥
এ একপ্রকার জ্বালা এখানের নয় ।
ভাবরাজ্যের ভাবুকের ভাব-ক্ষেতে হয় ॥ ১০১ ॥
মজার জ্বালার মিষ্টি কি কব তোমাকে ।
ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম সূর্যমণির আলোকে ॥ ১০২ ॥
একে বহে দাহ্য গুণ পরাণ বিকল ।
মণির
আলোকে করে প্রাণ সুশীতল ॥ ১০৩ ॥
এখন প্রভুর নাই আরাম বিরাম ।
সর্বদাই ব্যতিব্যস্ত
লয়ে বালরাম ॥ ১০৪ ॥
এখন সমাধি নাই নাই ভাবাবেশ ।
স্বহস্তে করেন নারিকেলের সন্দেশ ॥ ১০৫ ॥
কত কথা কত রঙ্গ হয় তার সনে ।
কভু ক্রোধাবিষ্ট কভু সস্নেহ বচনে ॥ ১০৬ ॥
দেখিয়া শুনিয়া লোকে বুঝে তার মর্ম ।
বাতিক বায়ুর বেগ প্রাবল্যের ধর্ম ॥ ১০৭ ॥
আইও তাহাই কন আচার দেখিয়ে ।
ক্ষেপিলি কি সন্ন্যাসীর ঠাকুর লইয়ে ॥ ১০৮ ॥
কখন বলেন আই হৃদয়ের কাছে ।
গদায়ে আমার বুঝি পরীতে পেয়েছে ॥ ১০৯ ॥
প্রভু বিনা অন্য কেহ দেখিতে না পায় ।
রামলালা সঙ্গে তাঁর খেলিয়া বেড়ায় ॥ ১১০ ॥
এ এক রাজ্যের কথা এ রাজ্যের নয় ।
বিমানেতে স্থিতি ভিত্তি নিত্য নিত্য রয় ॥ ১১১ ॥
আলম্বনশূন্য সেটি ঝুলে আসমানে ।
হইলেও নিকটস্থ দূরবর্তী স্থানে ॥ ১১২ ॥
ভাবী বিনা অন্যে নাহি দেখিবারে পায় ।
বিষম হেঁয়ালি কথা না আসে মাথায় ॥ ১১৩ ॥
নাহি তথা বাহ্য রূপ-রসাদির গন্ধ ।
রোষ দ্বেষ আদি করি অরাতির দ্বন্দ্ব ॥ ১১৪ ॥
নাহি তথা স্থুল বাহ্য ভৌতিক
ব্যাপার ।
নাহি চন্দ্র নাহি সূর্য মালা তারকার ॥ ১১৫ ॥
আছে তথা ভাব লক্ষ্য সঙ্গে
এক মন ।
আছে সংস্কার অরি প্রতিদ্বন্দ্বিগণ ॥ ১১৬ ॥
রথ অস্ত্র বিনা আছে অনন্ত সমর ।
তার পারে পুরী আছে অতীব সুন্দর ॥ ১১৭ ॥
বিনা চন্দ্রে বিনা সূর্যে পুরী জ্যোতির্ময় ।
পুরীর শোভার কথা কহিবার নয় ॥ ১১৮ ॥
আছে এক রত্নবেদী অতি অলৌকিক ।
তদুপরি জ্বলে এক অমূল্য মানিক ॥ ১১৯ ॥
নানান বর্ণের জ্যোতি রূপ উঠে তার ।
এক এক বর্ণরূপে
বিভিন্ন আকার ॥ ১২০ ॥
দেখিলে সে কেহ আর পালটিতে নারে ।
ডুবে যায় অপরূপ রূপের
পাথারে ॥ ১২১ ॥
এ হেন রাজ্যের রাজ্যেশ্বর অবতার ।
অনুক্ষণ প্রিয় রাজ্যে বিলাস
বিহার ॥ ১২২ ॥
কেমনে বুঝিব মোরা এ রাজ্যের কথা ।
যে কবে বলিব তার বিকারের মাথা ॥ ১২৩ ॥
তাই প্রভু আমাদের দৃষ্টিতে কেবল ।
একজনা ঘোর বদ্ধ উন্মত্ত পাগল ॥ ১২৪ ॥
ধূলা দিয়ে জগতের চক্ষের উপর ।
রঙ্গভূমে করে রঙ্গ রঙ্গের ঈশ্বর ॥ ১২৫ ॥
অত্যাশ্চর্য ভাবরাজ্য প্রভুর বিদিতি ।
বালরামে লয়ে হৈল বাৎসল্যের ইতি ॥ ১২৬ ॥
সাধনাসহায়ে প্রভু দেখিবারে পান ।
এই বালকের অঙ্গে সৃষ্টি শোভমান ॥ ১২৭ ॥
বালরামময় সৃষ্টি আর নাহি কেহ ।
ভাবাতীত একা ভূমি সম্মিলনী গৃহ ॥ ১২৮ ॥
ভাবপঞ্চকের মধ্যে শেষ চতুষ্টয় ।
মথুরের কথা পাবে পরে পরিচয় ॥ ১২৯ ॥