৫৩০
(স্বামী রামকৃষ্ণানন্দকে লিখিত)

ওঁ নমঃ ভগবতে রামকৃষ্ণায়

মঠ, বেলুড়, হাওড়া
৩ জুন, ১৯০১

কল্যাণবরেষু,

তোমার পত্র পেয়ে হাসিও পেল, কিঞ্চিৎ দুঃখও হল। হাসির কারণ এই যে, পেটগরমের কি স্বপ্ন দেখে তুমি একটা সত্য ঠাউরে নিজেকে দুঃখিত করেছ। দুঃখের কারণ এই যে, এতে বোঝা যায় তোমার শরীর ভাল নয় — তোমার স্নায়ুমণ্ডলীর পক্ষে বিশ্রামের একান্ত আবশ্যক।

আমি তোমাকে কস্মিন‍্কালেও শাপ দিই নাই, আজ কেন দেব? আজন্ম আমার ভালবাসার পরিচয় পেয়ে কি আজ তোমাদের অবিশ্বাস হল? অবশ্য আমার মেজাজ চিরকালই খারাপ, তায় আজকাল রোগে পড়ে মধ্যে মধ্যে বড্ডই হয় — কিন্তু নিশ্চিত জেনো যে, সে ভালবাসা যাবার নয়।

আমার শরীর আজকাল আবার একটু ভাল হচ্ছে। মাদ্রাজে বৃষ্টি আরম্ভ হয়েছে কি? দক্ষিণে একটু বৃষ্টি আরম্ভ হলেই আমি বোধ হয় বম্বে, পুনা হয়ে মাদ্রাজ যাব। বর্ষা আরম্ভ হলেই বোধ হয় দক্ষিণের প্রচণ্ড গরম থেমে যাবে।

সকলকে আমার বিশেষ ভালবাসা দিও, তুমিও জানিও।

কাল শরৎ দার্জিলিঙ হতে মঠে এসেছে — শরীর অনেক সুস্থ, পূর্বাপেক্ষা। আমি বঙ্গদেশ আর আসাম ভ্রমণ করে এস্থানে পৌঁছেছি। সকল কাজেই নরম গরম আছে — কখনও চড়াই, কখনও উতরাই। আবার উঠবে। ভয় কি?

যা হোক, আমি বলি যে তুমি কাজকর্ম কিছুদিনের জন্য বন্ধ করে একদম মঠে চলে এস — এখানে মাসখানেক বিশ্রামের পর তুমি আমি একসঙ্গে will make a grand tour (বিরাট ভ্রমণে বেরুব) in Gujrat, Bombay, Poona, Hyderabad, Mysore to Madras (গুজরাট, বম্বে, পুনা, হায়দরাবাদ ও মহীশূর হয়ে মাদ্রাজ পর্যন্ত)। Would not that be grand (ওটা কি খুব চমৎকার হবে না)? তা না যদি পার একান্ত, মাদ্রাজের লেকচার এখন একমাস স্থগিত থাক — তুমি দুটি দুটি খাও, আর খুব ঘুমাও। আমি দুই-তিন মাসের মধ্যে সেথা আসছি। যা হোক, পত্রপাট একটা বিচার করে লিখবে। ইতি

সাশীর্বাদং
বিবেকানন্দ