১১১ক
(শ্রীমন্মথনাথ ভট্টাচার্যকে লিখিত পত্রের অংশমাত্র)
আমেরিকা
৫ই সেপ্টেম্বর, ১৮৯৪
ভট্টাচার্য মহাশয়,
আপনার প্রণয়পূর্ণ পত্রপাঠে অতিশয় প্রীত হইলাম। কাপড় বুনিবার যন্ত্র যত শীঘ্র পারি খোঁজ করিয়া আপনাকে লিখিব। এক্ষণে আমি অ্যানিস্কাম নামক সমুদ্রতীর-গ্রামে বিশ্রাম করিতেছি — শীঘ্রই শহরে যাইয়া অনুসন্ধান করিব। গরমীকালে এই সকল সমুদ্রতীর স্থান লোকপূর্ণ হয়। কেউ নাইতে আসে, কেউ বিশ্রাম করতে আসে ***
ক্রমে সব হবে — 'শনৈঃ পন্থা শনৈঃ কন্থা শনৈঃ পর্বতলঙ্ঘনম।' কাগজপত্র সব ঠিকঠাক পৈৗঁছে গেছে, তাতে কোনও গোলমাল নাই, দুশমনের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। ...ম — বলছেন, “ও বদমাশ” — তাতে কানও পাতে না — এদের গুণ কত। কত দয়া, আমার শত জন্মেও এদের ঋণ শোধ হবে না — আমি আমেরিকার মেয়েদের পুষ্যিপুত্র এঁরা যথার্থই আমার মা এঁদের কল্যাণ হবে না তো কাদের হবে?
মধ্যে Greenacre বলে একস্থানে কয়েক-শ মেয়েমদ্দ এ দেশের মাথাওয়ালা একত্র হয়েছিল। আমি সেখানে ছিলাম প্রায় দুমাস। রোজ এক গাছের তলায় আমাদের হিদু ফ্যাসনে বসতুম আর আমার চারিদিকে আমার চেলাচলিত্রি ঘাসের উপর বসত। রোজ সকালে — উপদেশ দিতাম — কত আগ্রহ এদের। দেশসুদ্ধ লোক আমাকে জানে, পাদ্রীরা বড়ই চটা। সকলে নয় অবিশ্যি এদের learned পাদ্রীর মধ্যে অনেকে আমার চেলা আছে। **
আমি হচ্ছি এদের পুষ্যি। আমায় গাল দিলে এদের মেয়ে-মহলে তার নামে ধিক্কার পড়ে যায়। কবে দেশে যাব বলতে পারি না — বোধ হয় আসছে শীতকালে যাব। সেখানেও ঘুরে বেড়ান, এখানেও তাই। কিমধিকমিতি। চিঠিটা ফাঁস করবেন না — বুঝতে পেরেছেন — আমার এখন প্রত্যেক কথাটি হুঁশিয়ার হয়ে কইতে হয় — public man সব... ওৎ পেতে থাকে। ...
বশংবদ বিবেকানন্দ