৫০৪
(স্বামী তুরীয়ানন্দকে লিখিত)

৬ প্লাস দে-জেতাৎ ইনি
প্যারিস
অগস্ট, ১৯০০

হরি ভাই,

এক্ষণে ফ্রান্স দেশের সমুদ্রতটে অবস্থান করছি। Congress of History of Religions (ধর্মেতিহাস সম্বেলন) হয়ে গেছে। সে কিছুই নয়, জন কুড়ি পণ্ডিতে পড়ে শালগ্রামের উৎপত্তি, যিহোবার উৎপত্তি ইত্যাদি বক‍্‍বাদ করেছে। আমিও খানিক বক‍্‍বাদ তায় করেছি।

আমার শরীর-মন ভেঙে গেছে। বিশ্রাম অত্যাবশ্যক। তার উপর একে নির্ভর করবার লোক কেউ নেই, তায় আমি যতক্ষণ থাকব, আমার উপর ভরসা করে সকলে অত্যন্ত স্বার্থপর হয়ে যাবে।

… লোকের সঙ্গে ব্যবহার করতে গেলে দিনরাত মনঃকষ্ট। কাজেই … সব লিখে-পড়ে আলাদা হয়ে গেছি। এখন আমি লিখে দিচ্ছি যে, কারও একাধিপত্য থাকবে না। সমস্ত কাজ majority-র (অধিকাংশের) হুকুমে হবে … সেই মত ট্রাস্ট ডীড‍্ করিয়ে নিলেই আমি বাঁচি।

এ বৃত্তান্ত ঐ পর্যন্ত। এখন তোমরা যা হয় কর। আমার কাজ আমি করে দিয়েছি বস্‌। গুরুমহারাজের কাছে ঋণী ছিলাম — প্রাণ বার করে আমি শোধ দিয়েছি। সে কথা তোমায় কি বলব? … দলিল করে পাঠিয়েছে সর্বেসর্বা কত্তাত্তির! কত্তাত্তি ছাড়া বাকী সব সই করে দিয়েছি!

গঙ্গাধর, তুমি, কালী, শশী, নূতন ছেলেরা — এদের ঠেলে ঐ রাখাল ও বাবুরামকে কত্তা করে দিচ্ছি। গুরুদেব বড় বলতেন। এ তাঁর কাজ। … প্রাণ ধরে সই করে দিয়েছি। এখন থেকে যা করব, সে আমার কাজ।

আমি এখন আমার কাজ করতে চললুম। গুরুমহারাজের ঋণ প্রাণ বার করে শুধে দিয়েছি। তাঁর আর দাবী-দাওয়া নেই।

তোমরা যা করছ, ও গুরুমহারাজের কাজ, করে যাও। আমার যা করবার করে দিয়েছি, বস্। ও-সব সম্বন্ধে আমায় আর কিছু লিখো না, বল না, ওতে আমার মতামত একদম নেই। … এখন থেকে অন্য রকম। … ইতি

নরেন্দ্র

পুঃ — সকলকে আমার ভালবাসা।


২৬ মে, ১৮৯০ খ্রীঃ প্রমদাদাস মিত্র মহাশয়কে লিখিত পত্র দ্রষ্টব্য।