তৃতীয় খণ্ড

দেশে আগমন


জয় জয় রামকৃষ্ণ অখিলের স্বামী ।
জয় জয় গুরুমাতা জগৎ-জননী ॥
জয় জয় দোঁহাকার যত ভক্তগণ ।
সবার চরণরেণু মাগে এ অধম ॥


স্বদেশের ভক্ত যত পুরুষ-রমণী ।
সর্বদা দক্ষিণেশ্বরে করয়ে মেলানি ॥ ১ ॥

দেখিবারে গুণমণি ঠাকুর গদাই ।
উচাটন মন ঘরে স্থির থাকে নাই ॥ ২ ॥

আ মরি, কি ভালবাসা তা সবার ঘটে ।
প্রভুরে দেখিতে যায় তিন দিন হেঁটে ॥ ৩ ॥

গেঁটে নাই রৌপ্য কিংবা তাম্রখণ্ড বল ।
চাল চিড়া মুড়ি দুটি পথের সম্বল ॥ ৪ ॥

শ্রীপ্রভুর প্রীতিকর ভোজ্য কিছু তায় ।
দূরান্তর মাঠে পথে ছুটে ছুটে যায় ॥ ৫ ॥

ঋতুর তাড়না গায় কিছু নাহি মানে ।
তাত বাত বৃষ্টিপাত উড়ায় বিমানে ॥ ৬ ॥

উপায়বিহীন যারা না পাইত যেতে ।
মনস্তাপানলে দগ্ধ হয় দিনে রেতে ॥ ৭ ॥

ভক্তপ্রিয় প্রভুদেব ভক্ত তাঁর প্রাণ ।
কেহ নহে প্রিয়তর ভক্তের সমান ॥ ৮ ॥

ভক্ত-অঙ্গে অঙ্গ তাঁর ভক্তহৃদে বাস ।
ভক্ত-হাখে চুম্বী, ভক্ত-উল্লাসে উল্লাস ॥ ৯ ॥

পিতা মাতা ভাই ভক্ত, ভক্ত সহচর ।
ভক্তে তিনি, তাঁর ভক্ত অপরে অপর ॥ ১০ ॥

তাই হ'ত মাঝে মাঝে দেশে আগমন ।
তুষিতে স্বদেশে যত ভক্তদের মন ॥ ১১ ॥

স্বদেশের ভক্তসঙ্গে মধুর ব্যাভার ।
এ সময় হৈল দেশে আসা একবার ॥ ১২ ॥

সমাচার কানে যার একবার পশে ।
উঠে পড়ে তাড়াতাড়ি দেখিবারে আসে ॥ ১৩ ॥

নর নারী, ছেলে বুড়া, যুবক যুবতী ।
কিবা উচ্চবংশোদ্ভব কিবা নীচ জাতি ॥ ১৪ ॥

মানা নাই কুলবধূ ষোড়শবয়সী ।
দেখিবারে প্রভুদেব অকলঙ্ক শশী ॥ ১৫ ॥

লজ্জা ভয় প্রভুদেবে কেহ নাহি করে ।
লজ্জা ভয় ঘৃণা তাঁর দরশনে হরে ॥ ১৬ ॥

শূন্য হাত নহে, ল'য়ে যা যায় বাসনা ।
যে আসে তাহার যেন কিছু চাই আনা ॥ ১৭ ॥

প্রতিবাসী অতি খুশী নিকটস্থ গ্রামে ।
আসে যার কত শত থাকে রেতে দিনে ॥ ১৮ ॥

জীব জয় কেহ তাঁয় ভয় নাহি করে ।
পাখী এসে উড়ে বসে শ্রীঅঙ্গ উপরে ॥ ১৯ ॥

সবাকার ত্রাসনাশ প্রভু ভগবান ।
উঠিল সবার হৃদে আনন্দ-তুফান ॥ ২০ ॥

রঙ্গরসে তত্ত্বকথা হয় অনিবার ।
কিবা দিন কিবা রাতি নাহিক বিচার ॥ ২১ ॥

বহুমূল্য বারাণসী পাটের বসন ।
সোনালী রূপালী পাড় বিবিধ বরন ॥ ২২ ॥

দিয়াছেন বস্তাদরে মথুর বাঁধিয়া ।
সাজায় হৃদয় অঙ্গ তাই পরাইয়া ॥ ২৩ ॥

শ্রীকরে কেরয়া ধরা, খড়ম শ্রীপদে ।
দেখিতে না পেনু সাজ মরিলাম খেদে ॥ ২৪ ॥

কিবা মোহনিয়া মাখা শ্রীঅঙ্গে প্রভুর ।
বারেক দর্শনে করে সর্বদুঃখ দূর ॥ ২৫ ॥

দুঃখ দূর কিবা কথা এত সুখ মনে ।
কি ছার পদ্মের সুখ দিনেশ-দর্শনে ॥ ২৬ ॥

শ্রীবাক্য এতহ মিঠা এত শান্তিকর ।
নাহি কিছু তুলনায় ধরণীভিতর ॥ ২৭ ॥

আনন্দে বিভোর হৃদি দেখি শুনি তাঁয় ।
আত্মহারা সে চেহারা আঁকা নাহি যায় ॥ ২৮ ॥

দীন দুঃখী যারা জেতে বাগ্‌দী চুয়াড় ।
ক্ষেতে খাটে ঘরে নাই খাবার যোগাড় ॥ ২৯ ॥

মাঠে থাকে গোটা দিন শ্রম অবিরাম ।
পা বেয়ে গড়িয়ে পড়ে কপালের ঘাম ॥ ৩০ ॥

বিশ্রাম নাহিক কাজে ক্রমাগত খাটে ।
যতক্ষণ দিনেশ না বলে গিয়া পাটে ॥ ৩১ ॥

সন্ধ্যায় পাইলে মুক্তি ঘরে যাবে কোণা ।
আসিত প্রভুর কাছে শুনিবারে কথা ॥ ৩২ ॥

এত বিমোহিত হ'ত প্রভুর বচনে ।
দুপ্রহর ডাকে রাত্রি ক্লান্তি নাহি জানে ॥ ৩৩ ॥

নিজ মনে বুঝ মন কি ছিল কথায় ।
দুরদৃষ্ট কথা মিষ্ট নাহি লাগে যায় ॥ ৩৪ ॥

বিশ্ববিমোহন বাণী শুনে বিশ্ব ভুলে ।
লীলাপুষ্টিহেতু মাত্র জটিলে কুটিলে ॥ ৩৫ ॥

কি করে অবস্থা মন্দ ঘরে নাহি খেতে ।
প্রত্যুষেতে পুনরায় যেতে হবে ক্ষেতে ॥ ৩৬ ॥

সেই সে কারণে মাত্র ঘরে যেতে হয় ।
অনিচ্ছা প্রভুকে ছাড়ে না ছাড়িলে নয় ॥ ৩৭ ॥

হেথা শুন কি করেন ঠাকুর গদাই ।
এমন দয়াল আর কোথা শুনি নাই ॥ ৩৮ ॥

প্রাতে উঠি আগমন তারা যথা খাটে ।
গ্রাম থেকে বহুদূর দূরান্তর মাঠে ॥ ৩৯ ॥

শুনাতেন মিঠে মিঠে বিবিধ কথন ।
তাহাদের হয় যায় পরিতুষ্ট মন ॥ ৪০ ॥

কাক-কাকী নিকটস্থ ব'সে বৃক্ষডালে ।
উভয় উভয় প্রতি কেবা কিবা বলে ॥ ৪১ ॥

সকল শুনেন প্রভু সহাস্য বন্ধন ।
পক্ষিভাষ বুঝিবারে বুদ্ধি বিলক্ষণ ॥ ৪২ ॥

ভাঙ্গিয়া দিতেন পুনঃ কৃষাণের দলে ।
কাক-কাকী পরস্পর কে কি কথা বলে ॥ ৪৩ ॥



কেহ কেহ কথায় বিশ্বাস এত করে ।
শুনিয়া তাঁহার কথা মুণ্ডু যায় ঘুরে ॥ ৪৪ ॥

বিশ্বাসের নামান্তর ভক্তি শ্রীপ্রভুর ।
ত্রিতাপ সন্তাপ যার জোরে হয় দূর ॥ ৪৫ ॥

নিত্যবদ্ধ একেবারে জীবন্মুক্ত হয় ।
তিলমাত্র প্রভুদেবে যে করে প্রত্যয় ॥ ৪৬ ॥

অপার সংসার-সিন্ধু বেষ্টিত বিপদ ।
প্রভুতে বিশ্বাস যার তাহার গোষ্পদ ॥ ৪৭ ॥

বিশ্বাসে শ্রীপ্রভু মিলে অন্য হেতু নাই ।
শ্রীপদে বিশ্বাস দেহ জগৎগোসাঁই ॥ ৪৮ ॥

নাম গয়াবিষ্ণু লাহা, তামলীর জাত ।
যেই বংশে গয়াবিষ্ণু প্রভুর সেঙ্গাত ॥ ৪৯ ॥

বড় মানে গয়াবিষ্ণু প্রভু গদাধরে ।
শ্রীপদে বিশ্বাস তাঁর অটল অন্তরে ॥ ৫০ ॥

আশ্চর্য বিশ্বাস কথা শুন অতঃপর ।
একবার হৈল তাঁর তনয়ের জ্বর ॥ ৫১ ॥

বিকারসংশয়াপন্ন পরানে হতাশ ।
গোষ্ঠীবর্গ পিতামাতা পায় মহাত্রাস ॥ ৫২ ॥

নিকটে ডাক্তার কবিরাজ যত জনা ।
সমবেত দিনে রেতে প্রতিকার নানা ॥ ৫৩ ॥

সকলেই বিজ্ঞতম কেহ নহে কম ।
কেহ না করিতে পারে কিছু উপশম ॥ ৫৪ ॥

বিফল কৌশল যত সময় নিদান ।
পুত্রহেতু গঙ্গাবিষ্ণু আকুলপরান ॥ ৫৫ ॥

পরানসমান পুত্র প্রায় যায় ছেড়ে ।
কভু ভূমে গড়াগড়ি কভু মাথা খুঁড়ে ॥ ৫৬ ॥

দয়ার সাগর প্রভুদেব হেনকালে ।
উপনীত ভাবে অঙ্গ পড়ে ঢলে ঢলে ॥ ৫৭ ॥

বলিলেন নাহি দিবে বালকে ঔষধি ।
মায়ের কৃপায় হবে উপশম ব্যাধি ॥ ৫৮ ॥

যথা আজ্ঞা গঙ্গাবিষ্ণু দ্রুত ঘরে চলে ।
ঔষধ লইয়া ছুড়ে পুকুরের জলে ॥ ৫৯ ॥

দেশজুড়ে রাষ্ট্র কথা নিদান-বচন ।
যতক্ষণ শ্বাস আছে ঔষধ নিয়ম ॥ ৬০ ॥

তাহাতে বিকারযুক্ত প্রিয়তম ছেলে ।
ঔষধ অগ্রাহ্য করি কি বলেতে ফেলে ॥ ৬১ ॥

বিশ্বাস সংসারার্ণবে তরিবার তরী ।
শ্রীপদে বিশ্বাস দেহ কল্পতরু হরি ॥ ৬২ ॥

প্রভুর বচন যাহা কখন না টলে ।
দিনত্রয় মধ্যে সুস্থ হ'য়ে গেল ছেলে ॥ ৬৩ ॥

সম্পদ-বিপদ-সখা প্রভু বিশ্বপতি ।
শাস্তির ভাণ্ডার শুন রামকৃষ্ণ পুঁথি ॥ ৬৪ ॥



কিছুদিন থাকি প্রভু কামারপুকুরে ।
হৃদয়ের সঙ্গে গেলা তাহাদের ঘরে ॥ ৬৫ ॥

শিয়ড়ে হৃদুর ঘর নহে বহুদূর ।
সবে শুনে আগমন হ'য়েছে প্রভুর ॥ ৬৬ ॥

এখন নহেন আর আগেকার মত ।
যথা প্রভু তথা বহু জনাকীর্ণ হ'ত ॥ ৬৭ ॥

দরশন-আশে আসে কত লোকজন ।
বাউল বৈরাগী সাধু নানান রকম ॥ ৬৮ ॥

সংসারী যাহারা হরি-কথা ভালবাসে ।
কাতারে কাতারে থাকে শ্রীপ্রভুর পাশে ॥ ৬৯ ॥

শ্রীমুখে ঈশ্বরতত্ত্ব বারেক শুনিলে ।
এ জীবনে সাধ্য কার আর তাঁয় ভুলে ॥ ৭০ ॥

জনমনোমুগ্ধকর শ্রীমুখের ভাষ ।
যত শুনে তত উঠে অন্তরে উল্লাস ॥ ৭১ ॥

অমিয়-পূরিত কথা মহাশক্তিযোগে ।
শ্রবণবিবর দিয়া হৃদে গিয়া লাগে ॥ ৭২ ॥

মাঝে মাঝে ল'য়ে প্রভু গ্রামবাসিগণ ।
পথে পথে করিতেন নগর কীর্তন ॥ ৭৩ ॥

শ্রীপ্রভুর ভাব দেখি দু-একের হুঁশ ।
বুঝিত নহেন তিনি সামান্য মানুষ ॥ ৭৪ ॥

ভক্তিহীন অধিকাংশ তবু যতক্ষণ ।
হরি-কথা তাঁর মুখে করিত শ্রবণ ॥ ৭৫ ॥

বিমোহিত থাকিতেন আনন্দ অন্তরে ।
তথাপি বিশ্বাস-ভক্তি কেহ নাহি করে ॥ ৭৬ ॥

না দেখিলে মানুষেতে ঐশ্বর্য-ব্যাপার ।
কখন না হয় হৃদে বিশ্বাস-সঞ্চার ॥ ৭৭ ॥

অলৌকিক অধিক কতই দেখে লোকে ।
তথাপি যেমন তেন কিছু না চমকে ॥ ৭৮ ॥

কি ঘটিল শুন হন ঐশ্বর্য-আখ্যান ।
খানাকুল গণ্ডগ্রাম সুপ্রসিদ্ধ স্থান ॥ ৭৯ ॥

শত শত শাস্ত্রবিৎ জনের আকর ।
সুবিদিত সর্বলোকে দিগ্‌ দিগন্তর ॥ ৮০ ॥

এ সময় কয়জন পণ্ডিত ব্রাহ্মণ ।
কার্য উপলক্ষে করে শিয়ড়ে গমন ॥ ৮১ ॥

একদিন শ্রী প্রভু-সনে দেখা শুনা ।
কথায় কথায় হয় শাস্ত্র-আলাপনা ॥ ৮২ ॥

শিরড়ীয় যতজন তর্কদ্বন্দ্ব শুনে ।
শ্রীপ্রভুর প্রতিবাদ সিংহের বিক্রমে ॥ ৮৩ ॥

সুগূঢ় যে তত্ত্ব নাহি আইসে ব্যাখ্যায় ।
বুঝান শ্রীপ্রভু হেন সরল ভাষায় ॥ ৮৪ ॥

শত শত সরল উপমা-সহকারে ।
সুমূর্খ যে শুনে সেও বুঝিবারে পারে ॥ ৮৫ ॥

যে তত্ত্ব সুগুপ্ত মহাতিমিরাবরণে ।
উজ্জ্বল দিনের মত উপমাকিরণে ॥ ৮৬ ॥

প্রভুর শ্রীবাক্যে জ্যোতি নহে বলিবার ।
উদয় যথায় কভু না থাকে আঁধার ॥ ৮৭ ॥

শ্রীবাক্যে আছিল তাঁর এতদূর বল ।
তিলাধারে ধরে শুনে সাগরের জল ॥ ৮৮ ॥

হীন হেয় শির যার প্রভুর কৃপায় ।
সুগুঢ় ঈশ্বর তত্ত্ব হেসে বুঝে যায় ॥ ৮৯ ॥

প্রভুসনে পণ্ডিতেরা কহি শাস্ত্রকথা ।
বুঝিল যাহার নাহি জানিত বারতা ॥ ৯০ ॥

আশ্চর্য মানিয়া করে বাক্য-সংবরণ ।
শুন রামকৃষ্ণলীলা মধুর কথন ॥ ৯১ ॥

শিয়ড়ীয়া প্রভুদেবে নিরক্ষর জানে ।
পণ্ডিতেরে পরাভব করিলা কেমনে ॥ ৯২ ॥

দেখিয়া বিস্ময় মানে আশ্চর্য ব্যাপার ।
তথাপি না হয় হৃদে বিশ্বাস-সঞ্চার ॥ ৯৩ ॥



অধিকাংশ লোকের নিকটে অপ্রকাশ ।
দু-এক লোকের মাত্র প্রভুতে বিশ্বাস ॥ ৯৪ ॥

নফর মুখুয্যে নাম মান্য একজন ।
গ্রামেতে বসতি ভক্তি ঘটে বিলক্ষণ ॥ ৯৫ ॥

সেখানে নাহিক কেহ তাঁহার সমান ।
প্রভুতে আছিল তাঁর ইষ্টদেবজ্ঞান ॥ ৯৬ ॥

বড়ই গোপন প্রভু রাখিলা তথার ।
এবে শুন লোকজনে করে হায় হায় ॥ ৯৭ ॥

অপরের কিবা কথা হৃদুও না জানে ।
কেবা মামা গদাধর সে কার ভাগিনে ॥ ৯৮ ॥

যেমন উজান-ভাঁটা গঙ্গার সলিলে ।
এই কানেকান এই বয় গর্ভতলে ॥ ৯৯ ॥

জ্বলন্ত মহিমা কত হৃদয়ে দেখান ।
তথাপি বিশ্বাস নাহি চলে একটান ॥ ১০০ ॥

এ মামা যে চাঁদা মামা, মামা সকলের ।
কখন বুঝেন হৃদু কভু লাগে ফের ॥ ১০১ ॥

ভালবাসে প্রভুদেবে সেবে সযতনে ।
অদ্যাবধি হেন সেবা কেহ নাহি জানে ॥ ১০২ ॥

প্রভুর যখন যাহা সেবা ইচ্ছা যায় ।
সব কর্ম রাখি হৃদু সর্বাগ্রে যোগায় ॥ ১০৩ ॥

মধুর ভক্তির কথা নারিনু বুঝিতে ।
ভক্তি দিয়া বন্ধ প্রভু ভকতের হাতে ॥ ১০৪ ॥

ভক্ত-মনোমত কার্য ভক্তের কথায় ।
অসংখ্য প্রণাম করি হৃদয়ের পায় ॥ ১০৫ ॥

প্রভুর অপার কৃপা হৃদুর উপরে ।
তা না হ'লে তাঁর সেবা সাধ্য কার করে ॥ ১০৬ ॥

কার ঘরে আপুনি থাকেন বিদ্যমান ।
পিতামাতা বিধির বিধাতা ভগবান ॥ ১০৭ ॥



হৃদয়ে ঐশ্বর্য কত শ্রীপ্রভু দেখান ।
শুন হনুদত্ত কচি কুমুড়া-আখ্যান ॥ ১০৮ ॥

একদিন প্রভুদেব হৃদয়েরে কন ।
কচি কুমুড়ার আমি খাইব ব্যঞ্জন ॥ ১০৯ ॥

কচি কচি কুমুড়া না মিলে সে সময়ে ।
অকালের ফল সুদুর্লভ পাড়াগাঁয়ে ॥ ১১০ ॥

যেমন শ্রীআজ্ঞা করিলেন গুণধাম ।
অমনি হৃদয় চলে সঙ্গে রাজারাম ॥ ১১১ ॥

রাজারাম হৃদয়ের ছোট সহোদর ।
কুমুড়ার অন্বেষণে ফিরে ঘর ঘর ॥ ১১২ ॥

সঙ্গে আর অন্যজন সম্ভ্রান্ত গ্রামের ।
প্রতিবাসী মধ্যে তাঁর প্রতিপত্তি ঢের ॥ ১১৩ ॥

যে কোন কারণে প্রভুদেবে যেবা টানে ।
না হোক অধিক মাত্র তিল পরিমাণে ॥ ১১৪ ॥

তার সম ভাগ্যবান নহে কোন জন ।
ধন্য ধন্য জন্ম তাঁর সার্থক জীবন ॥ ১১৫ ॥

প্রভুসেবা প্রভুধ্যান প্রভুর ধারণা ।
লইয়া মানবজন্ম যাহার হ'ল না ॥ ১১৬ ॥

বিড়ম্বনা মাত্র প্রাণ অপদার্থ ছার ।
বিষয়ে আবদ্ধ জীব কেবল ঘৃণার ॥ ১১৭ ॥

কখন নাহিক তার দৃষ্টি উচ্চদিকে ।
উঠু ডুবু নিরন্তর নরকের দিকে ॥ ১১৮ ॥

সসাগরা ধরা সহ স্বর্ণসিংহাসন ।
পরিপূর্ণ কোষাগার মানিক রতন ॥ ১১৯ ॥

অতুল সম্পদ খ্যাতি যশের পতাকা ।
একছত্রে অধিকার ধরণীর একা ॥ ১২০ ॥

ইন্দ্র কিংবা ব্রহ্মপ্রস্থে প্রভুত্ব-স্থাপন ।
নিরন্তর যুক্তকর দেববেবীগণ ॥ ১২১ ॥

কিংবা গায় মহাবল না হয় প্রকাশ ।
স্বর্গ মর্ত্য রসাতল দেখে পায় ত্রাস ॥ ১২২ ॥

পদস্থ কিঙ্কর যম আজ্ঞাবহ থাকে ।
প্রবল হৃদয়ে তুলে পলকে পলকে ॥ ১২৩ ॥

কিংবা শ্রুতিকণ্ঠ হেন কণ্ঠ অগ্রে যার ।
মহাগুরু চারি বেদ বিদ্যার ভাণ্ডার ॥ ১২৪ ॥

শ্বেতাম্বুজ-বিহারিণী তাঁর পুত্রপ্রায় ।
হীনপ্রভ দ্বিগ্বিজয়ী বিদ্যার ছটায় ॥ ১২৫ ॥

বিভূতি-প্রসূত যত ঐশ্বর্য উদ্ভব ।
প্রভু অবতারে এবে সুলভ সে সব ॥ ১২৬ ॥

বরষার বারিসম যেথা সেথা স্থিতি ।
একমাত্র সুদুর্লভ প্রভুসেবা মতি ॥ ১২৭ ॥

প্রভুসেবা সারকর্ম, কর্মে পড়ে ফাঁস ।
চরম বাসনা প্রভুসেবা অভিলাষ ॥ ১২৮ ॥

সেবাস্বাদ একবার হ'লে আস্বাদন ।
নিশ্চয় সে বুঝে সেবা কর্মের চরম ॥ ১২৯ ॥

সেবা বিনা অন্য কর্ম নাহি ভাল লাগে ।
আন কর্ম হয় লোপ সেবা-অনুরাগে ॥ ১৩০ ॥

প্রভুসেবা কিবা কর্ম বলিবার নয় ।
এক কর্মে করে যত অন্য কর্ম ক্ষয় ॥ ১৩১ ॥

আয়োজিলে অন্য কর্ম তাহে আন ফল ।
কাঠের ঘর্ষণে যেন জন্মে দাবানল ॥ ১৩২ ॥

বিষ-উদ্‌গীরণ যেন বাসুকিবর্ষণে ।
নালা কেটে বন্যাজল ঘরে টেনে আনে ॥ ১৩৩ ॥

এক কর্মে করে কোটি কর্মের সূচনা ।
আসে যার করে নাই করমের সীমা ॥ ১৩৪ ॥

কিন্তু প্রভুসেবাকর্মে বুঝ ফলে কিবা ।
চরণসেবনফল শ্রীচরণসেবা ॥ ১৩৫ ॥

স্বার্থে কিংবা স্বার্থশূন্যে সেবা-আচরণ ।
যেই জন করে তাঁর সার্থক জীবন ॥ ১৩৬ ॥

ধন্য ধন্য মহাধন্য হৃদু রাজারাম ।
কুমুড়ার অন্বেষণে ভ্রমে গোটা গ্রাম ॥ ১৩৭ ॥

পাতি পাতি করিয়া খুঁজিতে শেষকালে ।
দেখিল ফলের গাছ অনেকের চালে ॥ ১৩৮ ॥

নীচবংশোদ্ভবা সেই আবাস-স্বামিনী ।
কিবা জাতি কিবা নাম কিছু নাহি জানি ॥ ১৩৯ ॥

গাছে আছে এক ফল যেন প্রয়োজন ।
পুষ্টশস্য নহে, কচি সবুজ বরন ॥ ১৪০ ॥

অতি তুষ্টমন হৃদু ফল দেখি গাছে ।
মিষ্টভাবে কুমুড়াটি স্বামিনীরে যাচে ॥ ১৪১ ॥

পণ কিবা বিনা পণে যেন রুচি তার ।
কচি হেতু দিতে নাহি করিল স্বীকার ॥ ১৪২ ॥

যত জেদ করে হৃদু মাগী তত বাঁকা ।
বলে বড় হ'লে পরে দিব এক ফাঁকা ॥ ১৪৩ ॥

উপায়বিহীন হৃদু যায় স্থানান্তরে ।
যদি অন্য স্থানে মিলে অপরের ঘরে ॥ ১৪৪ ॥

সম্মুখে সামান্য মাঠ পার হ'য়ে যেতে ।
শুন কি অদ্ভুত কাণ্ড ঘ'টে গেল পথে ॥ ১৪৫ ॥

ধীরে ধীরে চলে হৃদু চিন্তায় মগন ।
মধ্যমাঠে অকস্মাৎ আশ্চর্য কথন ॥ ১৪৬ ॥

মুখপোড়া হনু এক গায়ে মহাবল ।
পশ্চাৎ পশ্চাৎ ছুটে হাতে কচি ফল ॥ ১৪৭ ॥

বিকল-পরান যেন হতশ্বাস-প্রায় ।
সম্মুখে কুমুড়া রাখি অন্যত্রে পালায় ॥ ১৪৮ ॥

হৃদয় বিস্ময়ে ফল তুলে লয় হাতে ।
অদৃশ্য হইল হনু দেখিতে দেখিতে ॥ ১৪৯ ॥

কথায় কথায় পরে খবর পাইল ।
এটি সেই ফল, যাহা মাগী নাহি দিল ॥ ১৫০ ॥

জয় জয় প্রভুদেব অযোধ্যা-ঈশ্বর ।
জয় জয় কপিবেশী ভকত-প্রবর ॥ ১৫১ ॥

জয় দুই সহোদর হৃদু রাজারাম ।
অধম কাতরে যাচে দেহ চক্ষুদান ॥ ১৫২ ॥

যত অবতারে লীলা করিলা গোসাঁই ।
সবার আভাস এই অবতারে পাই ॥ ১৫৩ ॥

দিনকরে ধরে যেন যাবৎ বরন ।
প্রভু-অবতারে দেখি প্রকৃত তেমন ॥ ১৫৪ ॥

ভক্তগণ নানাদিকে নানান আকারে ।
আঁখিতে দেখিতে লীলা বুদ্ধি বল ছাড়ে ॥ ১৫৫ ॥

চেনা দায় কে কোথায় প্রভুর সেবনে ।
ছদ্মবেশী দিবানিশি ভ্রমে স্থানে স্থানে ॥ ১৫৬ ॥

দেহ সৎবুদ্ধি মুক্ত আঁখি ভগবান ।
ভক্ত-অপরাধে যাহে পাইব এড়ান ॥ ১৫৭ ॥

পুলক অন্তরে হেখা দুই সহোদর ।
লইয়া কুমুড়া কচি উতরিল ঘর ॥ ১৫৮ ॥

যাদু করে যেবা তার সঙ্গে যেবা থাকে ।
অদ্ভুত যেই যাদু অপরের চোখে ॥ ১৫৯ ॥

দেখিবারে সে কখন নাহি হয় রাজী ।
মনে ভাবে কি দেখিব এ ঘরের বাজি ॥ ১৬০ ॥

তেমতি প্রকৃত সহোদর দুই জনে ।
প্রভুর মহিমা দেখি বিস্ময় না মানে ॥ ১৬১ ॥



অপরের মুখে কথা বহুদূর ছুটে ।
প্রতাপ হাজরা এক এ সময় জুটে ॥ ১৬২ ॥

সন্নিকটে মড়াগেড়ে নামে ক্ষুদ্র গ্রাম ।
হাজরার ঘর তথা সদ্‌গোপ-সন্তান ॥ ১৬৩ ॥

নাটকের মধ্যে যেন বিদূষক প্রায় ।
তেমনি প্রতাপচন্দ্র প্রভুর লীলায় ॥ ১৬৪ ॥

বিশুদ্ধ হৃদয় নাহি বিশ্বাসের গন্ধ ।
দিনমানে পদে পদে আঁধারের সন্দ ॥ ১৬৫ ॥

জেতে চাষা ক্ষেতে খাটে খাবার বাসনা ।
না চায় যদ্যপি তার দেয় কোন জনা ॥ ১৬৬ ॥

পরমদয়াল বন্ধু অনায়াসে ঘরে ।
ষোলআনা ফসল যতন সহকারে ॥ ১৬৭ ॥

তার সঙ্গে প্রভুর রগড় অতিশয় ।
সময়ে গাইব সবিশেষ পরিচয় ॥ ১৬৮ ॥

প্রভুদেব খেলা কৈলা সহিতে যাহার ।
যে হউন সে হউন প্রণম্য আমার ॥ ১৬৯ ॥

হাজরা যুবক-বয়ঃ প্রভুদরশনে ।
ছুটিয়া ছুটিয়া আসে হৃদুর ভবনে ॥ ১৭০ ॥

বাল্যাবধি হরিপদে ছিল তাঁর মন ।
ডাকে তাঁর নাহি পায় তাঁর অন্বেষণ ॥ ১৭১ ॥

সেই হেতু একদিন প্রভুরে জিজ্ঞাসে ।
হরির যে আছে কান জানা যায় কিসে ॥ ১৭২ ॥

এত ডাকাডাকি করি নাহি পাই সাড়া ।
ভাবিয়া না পারি কিছু করিতে কিনারা ॥ ১৭৩ ॥

মৃদু হাসি প্রভুদেব করিলা উত্তর ।
কেন নাহি পাও সাড়া শুনহ খবর ॥ ১৭৪ ॥

ইক্ষু ক্ষেতে পুকুরের জল দিতে হ'লে ।
সিমনি লইয়া ছিঁচে কৃষাণেরা মিলে ॥ ১৭৫ ॥

নালায় নালায় জল চলে নিরন্তর ।
যে নালা পুকুর হ'তে ক্ষেত বরাবর ॥ ১৭৬ ॥

নালার মধ্যেতে যদি যোগ কোথা থাকে ।
ছোঁচা জল যত সব যায় সেই দিকে ॥ ১৭৭ ॥

মূল ক্ষেতে নাহি ভিজে এক দানা বালি ।
আগোটা পুকুর যদি ছিঁচে করে খালি ॥ ১৭৮ ॥

মধ্যপথে তেন যার ছিদ্র বিদ্যমান ।
ডাকা আর নাই-ডাকা উভয় সমান ॥ ১৭৯ ॥

পথে মারা যায় ডাক পঁহুছিতে নারে ।
যাঁহার উদ্দেশে ডাক তাঁহার গোচরে ॥ ১৮০ ॥

একি প্রভু দয়াময় উত্তর বচন ।
সম্মুখীন উভয়েতে কথোপকথন ॥ ১৮১ ॥

করিলেন উত্তর শুনিয়া তৎক্ষণে ।
তবে না পঁহুছে ডাক কহ কি কারণে ॥ ১৮২ ॥

শুনিয়া না শুন থাক বধিরের পারা ।
ধরাধরি এত তবু নাহি দাও ধরা ॥ ১৮৩ ॥

এবা কিবা বিড়ম্বনা অদৃষ্টের ফের ।
যত কাছে তত দূর নাহি পাই টের ॥ ১৮৪ ॥

মহাসোজা মহা বাঁকা বিশ্বাসবিহীনে ।
বিশ্বাস ভকতি দেহ অভয় চরণে ॥ ১৮৫ ॥



শিকলে শিকলে যেন পরস্পর টানে ।
সেইমত আসে কত প্রভুদরশনে ॥ ১৮৬ ॥

ক্রমে ক্রমে লোকের মেলানি হৃদু দেখে ।
প্রভুরে নির্জন ঘরে বন্ধ করি রাখে ॥ ১৮৭ ॥

দরশন বিনা ক্ষুণ্ণমন লোকজন ।
বসনে পাবক বাঁধা থাকে কতক্ষণ ॥ ১৮৮ ॥

শরৎ-জলদজাল আঁধার-বরন ।
বেগে যেন রেগে ঢাকে জগৎ-লোচন ॥ ১৮৯ ॥

পবনে খেদায় বাধা পর মুহূর্তেকে ।
দ্বিগুণ ছড়ায় সূর্য আপন আলোকে ॥ ১৯০ ॥

তেমতি শ্রীপ্রভু গুপ্ত থাকি কিছুক্ষণ ।
সমুদিত হইতেন যথা লোকজন ॥ ১৯১ ॥

বিতরি কিরণ-রূপা শতগুণ তেজে ।
ফুল্ল করি দর্শকের হৃদয়-সরোজে ॥ ১৯২ ॥

পূর্বপরিচিত এক মহাভাগ্যবান ।
শ্যামবাজারেতে ঘর ক্ষুদ্র পল্লীগ্রাম ॥ ১৯৩ ॥

নাম তাঁর নটবর গোস্বামী ব্রাহ্মণ ।
প্রভুদেবে পূজিতেন গুরুর মতন ॥ ১৯৪ ॥

চরণ-বন্দন তাঁর করি বারে বার ।
প্রভুর গমন একবার তাঁর ঘর ॥ ১৯৫ ॥

ভক্তিমান নিজে যেন আপনি ব্রাহ্মণ ।
ভবনেতে ভক্তিমতী গৃহিণী তেমন ॥ ১৯৬ ॥

ভক্তিভরে দারাসহ সেবা কৈল তাঁর ।
বড় মিষ্ট রাষ্ট্র কথা পটল ভাজার ॥ ১৯৭ ॥

পটলের ভাজি এত লেগেছিল মিঠে ।
মহাভক্ত মথুরের কানে ক্রমে উঠে ॥ ১৯৮ ॥

মথুরে বলিয়াছিলা আপনি গোসাঁই ।
মধুর এমন ভাজি কোথাও না খাই ॥ ১৯৯ ॥

কি দিয়া রাঁধিয়াছিল বামনের মেয়ে ।
তুষ্ট প্রভু রামকৃষ্ণ যে ভাজি খাইয়ে ॥ ২০০ ॥

অপুত্রক আছিলেন গোস্বামিপ্রবর ।
পুত্র-ভিক্ষা করিলেন প্রভুর গোচর ॥ ২০১ ॥

বাঞ্ছাকল্পতরু প্রভুদেব ভগবান ।
কৃপা করি দিলা বর হইবে সন্তান ॥ ২০২ ॥

যথাকথা প্রভুবাক্য নহে টলিবার ।
অচিরে পাইল এক সুন্দর কুমার ॥ ২০৩ ॥

সেই হেতু প্রভুপদে অটল ভকতি ।
দেশে আগমন শুনে আসে দ্রুতগতি ॥ ২০৪ ॥

একাকী নহেন সঙ্গে কীর্তনের দল ।
কৃষ্ণভক্ত তন্তুবায় তাহারা সকল ॥ ২০৫ ॥

বৈষ্ণব-আচার তাঁতী বহু সেই গ্রামে ।
বড় ভালবাসে সাধুভক্ত-দরশনে ॥ ২০৬ ॥

দেখিয়া প্রভুর মূর্তি লুটে পড়ে পায় ।
সংকীর্তনসহকারে গ্রামে ল'য়ে যায় ॥ ২০৭ ॥

প্রভুর বৈঠক হয় গোস্বামীর ঘরে ।
ভাণ্ডারা যোগায় দিন পিরীতের ভরে ॥ ২০৮ ॥

শ্রীপ্রভুর হয় ভিক্ষা গ্রামে স্থানে স্থানে ।
কত শত শত ভক্ত সেই ঠাঁই জমে ॥ ২০৯ ॥

প্রভুসহ সম্মিলনে পরাসুখ পায় ।
ছেড়ে তাঁরে ঘরে কেহ যেতে নাহি চায় ॥ ২১০ ॥

পায় মহাপ্রসাদ অবাধে পেট ভ'রে ।
দেখিয়া প্রভুর লীলা আত্মহারা করে ॥ ২১১ ॥

অবতারে ধরে ধরা অপরূপ ছবি ।
না চিনিনু সমাকার, কেবা দেব-দেবী ॥ ২১২ ॥

কেবা বৈকুণ্ঠের কেবা গোলোকের জাতি ।
কেবা কৈলাসের ধরা নরের আকৃতি ॥ ২১৩ ॥

পশু পাখী তৃণ লতা ছদ্মবেশ গায় ।
কি ভাবে কোথায় স্থিতি প্রভুর লীলায় ॥ ২১৪ ॥

খায় মহাপ্রসাদ কীর্তন সঙ্গে করে ।
না চিনি তাহারা কারা নরের আকারে ॥ ২১৫ ॥

তুলিয়া অতুলানন্দ প্রভু সেইখানে ।
ফিরিয়া আইল পুনঃ হৃদুর ভবনে ॥ ২১৬ ॥

এবারে অধিক দিন আর নহে তথা ।
হৃদয়-সহিত আসিলেন কলিকাতা ॥ ২১৭ ॥

রামকৃষ্ণ-কথা শুন অমৃত-লহরী ।
অপার সংসারসিন্ধু তরিবার তরী ॥ ২১৮ ॥