পঞ্চম খণ্ড
মহেন্দ্র ডাক্তারের সঙ্গে রঙ্গ ও তাঁহাকে বিবিধ উপদেশ
('তত্ত্বমঞ্জরী' মাসিক পত্রে প্রকাশিত 'শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত' হইতে সংগ্রহ)
বন্দ
মন বিশ্বগুরু রামকৃষ্ণরায় ।
প্রেমানন্দে বন্দ গুরুদারা জগন্মায় ॥
অবনী লুটায়ে বন্দ ভক্ত দোঁহাকার ।
যাঁদের হৃদয়মধ্যে যুগল বিহার ॥
এবে আশ্বিনের শেষ মাস প্রায় যায় ।
তিনমাস গোটা প্রভু পীড়িতাবস্থায় ॥ ১ ॥
বড় বড় কবিরাজ ডাক্তারের গণ ।
দেখিতেছে বিয়াধির আরম্ভ যখন ॥ ২ ॥
প্রাণপণে যত্ন-চেষ্টা আরোগ্যের তরে ।
বিফল সকল গেল ব্যাধি খুব বেড়ে ॥ ৩ ॥
এখন হতাশ সবে একমতে কয় ।
কঠিন বিয়াধি ইহা আরোগ্যের নয় ॥ ৪ ॥
হরিষ-বিষাদে কাল কাটে ভক্তগণ ।
কভু হাসে কভু করে অশ্রু বিসর্জন ॥ ৫ ॥
কভু বা তারকনাথে হত্যা দিতে যায় ।
কভু দৈব কর্মে জন্মপত্রিকা দেখায় ॥ ৬ ॥
কান্তিময় দেহখানি বিশুদ্ধ নিরস ।
আহার কেবলমাত্র সুজির পায়স ॥ ৭ ॥
এত পীড়া তবু লোকে দলে দলে আসে ।
বাঞ্ছাকল্পতরু-প্রভু-দরশন-আশে ॥ ৮ ॥
একবার দরশনে শোকতাপ দূর ।
অহেতুক কৃপাসিন্ধু দয়াল ঠাকুর ॥ ৯ ॥
দয়ার ইয়ত্তা নাই করুণানিদান ।
সদা চেষ্টা কিসে হয় লোকের কল্যাণ ॥ ১০ ॥
জীবনের একোদ্দেশ্য জগতের হিত ।
সকলের সঙ্গে কথা আদর সহিত ॥ ১১ ॥
কথার বিরাম নাই নাই তার ইতি ।
প্রাতঃকালাবধি প্রায় প্রহরেক রাতি ॥ ১২ ॥
কণ্ঠার চালনা হেতু কণ্ঠার পীড়ায় ।
ডাক্তার করিল মানা বাক্যব্যয়ে তাঁয় ॥ ১৩ ॥
লোকের মেলানি বন্ধ ভক্তগণ করে ।
শ্রীগোচরে যাইতে না দেয় যারে তারে ॥ ১৪ ॥
ঔষধের
বিধানাদি করিয়া ডাক্তার ।
আসিতে বিদায় মাগে প্রভুর গোচর ॥ ১৫ ॥
সুধামাখা বাক্যে তাঁরে কন ভগবান ।
কি হেতু সত্বর আজি শুনিবে না গান ॥ ১৬ ॥
নরেন্দ্রের গীতে মন মুগ্ধ সবাকার ।
গানের শুনিয়া কথা বসিল ডাক্তার ॥ ১৭ ॥
করে ধরা তানপুরা কিবা শোভা পায় ।
সসঙ্গে সতীশচন্দ্র মৃদঙ্গ বাজায় ॥ ১৮ ॥
বসিলা নরেন্দ্রনাথ সংগীত পিরীত ।
শ্রীপ্রভুর আজ্ঞামতে গাইবারে গীত ॥ ১৯ ॥
গীতের মাধুরী যেন তেমনি কণ্ঠের ।
শুনিলে বারেক ইচ্ছা শুনি ফের ফের ॥ ২০ ॥
গীত
নিবিড় আধারে মা তোর চমকে ও রূপ রাশি ।
তাই যোগী ধ্যান ধরে হয়ে গিরিগুহাবাসী ॥
অনন্ত আঁধার-কোলে, মহানির্বাণ হিল্লোলে ।
চিরশান্তি-পরিমল অবিরত যায় ভাসি ॥
মহাকালীরূপ ধরি, আঁধার-বসন পরি,
সমাধি মন্দিরে ওমা কে তুমি গো একা বসি,
অভয় পদকমলে, প্রেমের বিজলী জ্বলে,
চিন্ময় মুখমণ্ডলে শোভে অট অট্ট হাসি ॥
গীত সমাপনে কন মাস্টারে ডাক্তার ।
এ গীত প্রভুর পক্ষে অতি ভয়ঙ্কর ॥ ২১ ॥
শুনিলে সংগীত হেন হইবে সমাধি ।
যাহাতে সম্ভব খুব বৃদ্ধি হবে ব্যাধি ॥ ২২ ॥
করিতে করিতে এই কথা-আন্দোলন ।
শ্রীপ্রভু গভীর ধ্যানে হইল মগন ॥ ২৩ ॥
স্পন্দহীন গোটা অঙ্গ শ্রবণ বধির ।
কাঠপুত্তলিকাতুল্য দু-নয়ন স্থির ॥ ২৪ ॥
বাহ্যজ্ঞানশূন্য দেহে দেহের অসুখ ।
মন বুদ্ধি চিত্ত অহংকার অন্তর্মুখ ॥ ২৫ ॥
প্রভুকে ভাবস্থ দেখি নরেন্দ্র আবার ।
ধরিলেন অন্য গীত পিক-কণ্ঠে তাঁর ॥ ২৬ ॥
গীত
কি সুখ জীবনে মম ওহে নাথ দয়াময় হে ।
যদি চরণ-সরোজে পরান মধুপ চিরমগন না রয়
হে ।
অগণন ধনরাশি তায় কিবা ফলোদয় হে,
যদি লভিয়ে সে ধনে পরম যতনে যতন না করয় হে,
সুকুমার কুমারমুখ দেখিতে না চাই হে,
যদি সে চাঁদবয়ানে তব প্রেমমুখ দেখিতে
না পাই হে,
কি হার শশাঙ্কজ্যোতিঃ দেখি আঁধারময় হে,
যদি সে চাঁদপ্রকাশে তব
প্রেমচাঁদ নাহি উদয় হয় হে ।
সতীর পবিত্র প্রেম তাও মলিনতাময় হে,
যদি সে প্রেমকনকে তব প্রেমমশি
নাহি জড়িত রয় হে ।
তীক্ষ্ণবিষ ব্যাল সম সতত সংশয় হে,
যদি মোহ-পরমাদে নাথ তোমাতে ঘটায় সংশয় হে ।
কি আর বলিব নাথ বলিব তোমায় হে,
তুমি আমার হৃদয়রতন মণি আনন্দ নিলয় হে
॥
এই গীতে বিমোহিত হইয়া ডাক্তার ।
দু-নয়নে বরিষণ করে অশ্রু ধার ॥ ২৭ ॥
ইতিমধ্যে প্রভুদেব আসিলেন ফিরে ।
ধীরে ধীরে
আপনার আবাস-মন্দিরে ॥ ২৮ ॥
মরি কি প্রভুর শোভা মনোহর ছবি ।
আবাসে উদয় যেন কত শশী
রবি ॥ ২৯ ॥
মুগ্ধ-মন লোকজন নীরব সভায় ।
নাই শব্দ সবে স্তব্ধ ভাবে ভেসে যায় ॥ ৩০ ॥
কোথায় কঠিন পীড়া শ্রীঅঙ্গে এখন ।
বিন্দুমাত্র বিয়াধির নাহিক লক্ষণ ॥ ৩১ ॥
শ্রীমুখ প্রফুল্ল কিবা কান্তি উঠে তায় ।
হেরিলে আপনি মায়া নিজে মোহ যায় ॥ ৩২ ॥
একদৃষ্টে সকলেই চেয়ে মুখপানে ।
পুনরায় মনে আশা কথামৃত-পানে ॥ ৩৩ ॥
ভক্ত-বাঞ্ছাকল্পতরু বুঝিয়া অন্তরে ।
কন কথা সম্বোধিয়া মহেন্দ্র ডাক্তারে ॥ ৩৪ ॥
লজ্জা ঘৃণা ভয় তিন করি পরিহার ।
গাও ঈশ্বরের নাম মুখে এইবার ॥ ৩৫ ॥
ডাক্তারের মনে মনে ষোল আনা জানা ।
তিনি খুব সুপণ্ডিত বৈজ্ঞানিক জনা ॥ ৩৬ ॥
বিজ্ঞানশাস্ত্রেতে পটু বুদ্ধি বিচক্ষণ ।
সেই তমোবিনাশনে প্রভুদেব কন ॥ ৩৭ ॥
বিজ্ঞান কাহারে বলে লক্ষণ কি তার ।
যার বলে ফুটে চক্ষু নষ্ট অহংকার ॥ ৩৮ ॥
জ্ঞান-অজ্ঞানের পারে যায় যেই জন ।
সেই সে বুঝিতে পারে ঈশ্বর কেমন ॥ ৩৯ ॥
সে জন অজ্ঞান নানা জ্ঞান আছে যার ।
কিংবা যার মনোমধ্যে পাণ্ডিত্যাহঙ্কার ॥ ৪০ ॥
ঈশ্বর সকল ভূতে রন বিদ্যমান ।
ইহাতে নিশ্চয় বুদ্ধি তার নাম জ্ঞান ॥ ৪১ ॥
যে বুদ্ধি বিশেষরূপে ভগবানে জানে ।
সেই বুদ্ধি সুবিদিত বিজ্ঞানের নামে ॥ ৪২ ॥
ভগবান জানাজ্ঞান এ দুয়ের পার ।
সযতনে উভয়েই কর পরিহার ॥ ৪৩ ॥
পায়েতে ফুটিলে কাঁটা কাঁটা দিয়ে ভুলে ।
পশ্চাতে উভয় কাঁটা দূরে দেয় ফেলে ॥ ৪৪ ॥
প্রথমে অজ্ঞান-কাঁটা তুলিবার তরে ।
জ্ঞান-কাঁটা যেটি তার আবশ্যক করে ॥ ৪৫ ॥
বিদ্ধ কাঁটা উঠাইয়া যুক্তি এই সার ।
সমভাবে উভয়েরে কর পরিহার ॥ ৪৬ ॥
বাখানিয়া প্রভুদেব কন এইখানে ।
লক্ষণ জিজ্ঞাসা কৈল সীতাপতি রামে ॥ ৪৭ ॥
বশিষ্ঠদেবের মত হেন জ্ঞানী জন ।
অধীর পুত্রের শোকে করেন রোদন ॥ ৪৮ ॥
তদুত্তরে লক্ষ্মণেরে কহিলেন রাম ।
জ্ঞান আছে যেথা আছে সেখানে অজ্ঞান ॥ ৪৯ ॥
জানাজ্ঞান পাপপুণ্য ধর্ম কি অধর্ম ।
শুচি কি অশুচি এই যাবতীয় কর্ম ॥ ৫০ ॥
সকলের পারে পাবে সেই ভগবান ।
এত বলি পিক-কণ্ঠে ধরিলেন গান ॥ ৫১ ॥
গীত
আয় মন বেড়াতে যাবি ।
কালীকল্পতরুমূলে বসে চারি কল কুড়ায়ে পবি ॥
প্রযুক্তি নিবৃত্তি জায়া তার নিবৃত্তিরে সঙ্গে নিবি ।
বিবেক নামে তার বেটা তত্ত্বকথা তায় শুধাবি ॥
প্রথম ভার্যার সন্তানেরে দূর হ'তে বুঝাইবি ।
যদি না মানে প্রবোধ কালীসিন্ধুনীরে ডুবাইবি ॥
শুচি-অশুচিরে ল'য়ে দিব্য ঘরে কবে শুবি ।
ভাদের দুই সতীনে পিরীত হ'লে
তবে শ্যামা-মাকে পাবি ॥
ধর্মাধর্ম দুটা অজা তুচ্ছ খুঁ'টার বেঁধে খুবি ।
তাদের জ্ঞানখড়্গে বলি দিয়ে উভয়ে কৈবল্য দিবি ॥
অহংকার অবিদ্যা তোর পিতামাতার তাড়িয়ে দিবি ।
যদি মোহগর্ভে টেনে লয় ধৈর্যখুঁটা ধ'রে র'বি ॥
প্রসাদ বলে এমন হ'লে তবে কালের কাছে
জবাব দিবি ।
তবে বাপু বাহা বাপের ঠাকুর মনের মত মন হবি ॥
হেনকালে কোনজন জিজ্ঞাসে প্রভুকে ।
দুটি কাঁটা-তিয়াগের পর কিবা থাকে ॥ ৫২ ॥
জানাজ্ঞান-পরিহারে পরের খবর ।
"নিত্যশুদ্ধবোধরূপ” প্রভুর উত্তর ॥ ৫৩ ॥
তাহার
স্বরূপ কথা বলিবার নয় ।
সেই বস্তু একমাত্র তার পরিচয় ॥ ৫৪ ॥
সচ্চিদানন্দের সঙ্গে ক্রীড়া কি রমণ ।
অবক্তব্য কথা ইহা না যায় বর্ণন ॥ ৫৫ ॥
ডাক্তারে করিয়া লক্ষ্য প্রভু পুনঃ কন ।
জ্ঞান জন্মে অহংকার হইলে নিধন ॥ ৫৬ ॥
অজ্ঞানেতে আমি ও আমার লোকে কয় ।
তুমি ও তোমার-বোধে জ্ঞানের উদয় ॥ ৫৭ ॥
সর্বেশ্বর ভগবান অন্য কেহ নন ।
আপনে অকর্তাবোধে জ্ঞানের লক্ষণ ॥ ৫৮ ॥
পুস্তকাধ্যয়নে ভারি বাড়ে অহংকার ।
তৃণবৎ তুচ্ছ দেখে জগৎ-সংসার ॥ ৫৯ ॥
ভক্তিকে বুঝিয়া সার এঁটে ধর খুঁটি ।
তিয়াগিয়া কূট তর্ক আন্ কুটিনাটি ॥ ৬০ ॥
পাপ পুণ্য আছে কিনা কাহে কিবা রয় ।
কে করে করায়, কর্ম কাহে কিবা হয় ॥ ৬১ ॥
ঈশ্বরের বৈষম্য দোষ এই যাবতীয় ।
কথার প্রসঙ্গে কিছু নাহি হয় শ্রেয়ঃ ॥ ৬২ ॥
একমাত্র সারবস্তু ভক্তি পরাধন ।
ঈশ্বরে প্রার্থনা কর ভক্তির কারণ ॥ ৬৩ ॥
খাইয়া শূকর মাংস ঈশ্বর-চরণে ।
ভক্তি যদি হয় তাও শ্রেয়ঃ লক্ষগুণে ॥ ৬৪ ॥
হবিষ্য করিয়া যদি আসক্তি সংসারে ।
সে নহে মানুষ বলি নরাধম তারে ॥ ৬৫ ॥
বিশেষিয়া কন প্রভু ডাক্তারের প্রতি ।
সপ্রেম সম্ভাষ ভাষে বিনয় সংহতি ॥ ৬৬ ॥
এতকাল সম্ভোগিলে বহু পরিমাণ ।
টাকাকড়ি প্রতিপত্তি অতুল সম্মান ॥ ৬৭ ॥
এইবার দাও মন ঈশ্বর-চরণে ।
উদ্দীপনা হেতু তুমি আসিও এখানে ॥ ৬৮ ॥
কিছুক্ষণ পরেতে ডাক্তার ভাগ্যবান ।
বিদায় লইয়া তবে কৈলা গাত্রোত্থান ॥ ৬৯ ॥
হেনকালে দরশন দিলেন গিরিশ ।
যাহে হৈল হরিষের উপরে হরিষ ॥ ৭০ ॥
প্রভুর চরণরেণু করিয়া গ্রহণ ।
উপবিষ্ট হইলেন হরষিত মন ॥ ৭১ ॥
ডাক্তার প্রেমের ভরে সম্ভাষিয়া তাঁয় ।
আসন গ্রহণ তেঁহ কৈলা পুনরায় ॥ ৭২ ॥
শ্রীপ্রভুর পদরজ লইতে দেখিয়া ।
ডাক্তার গিরিশে কন উপদেশ দিয়া ॥ ৭৩ ॥
আর সব কর যাহা যুক্তিযুক্ত হয় ।
ঈশ্বরের পূজা ওরে দেওয়া ভাল নয় ॥ ৭৪ ॥
এমন সুন্দর লোক এর হয় হানি ।
সেইহেতু নিবারণ করিতেছি আমি ॥ ৭৫ ॥
গুরুপদে স্থির মতি গৃহী ভক্তবর ।
বিশ্বাসী গিরিশ তাঁরে করিল উত্তর ॥ ৭৬ ॥
অকূল পাথার ভীম সন্দেহ-সাগরে ।
উত্তীর্ণ কৃপায় যাঁর কিবা দিব তাঁরে ॥ ৭৭ ॥
উচ্চ পুজা উপযুক্ত তাঁহার চরণে ।
তাঁর বিষ্ঠা বিষ্ঠাবৎ নাহি লয় মনে ॥ ৭৮ ॥
প্রত্যুত্তরে প্রতিবাদ বলেন ডাক্তার ।
আমার কথার ইহা কথা স্বতন্তর ॥ ৭৯ ॥
আমি কি পারি না নিলে 'লিচ্চি' এই বলি ।
ডাক্তার গ্রহণ কৈলা প্রভুপদ-ধূলি ॥ ৮০ ॥
গিরিশ তখন কন উল্লাসের ভরে ।
করিছে ত্রিদিববাসী ধন্য আপনারে ॥ ৮১ ॥
রজবলে ডাক্তারের আলোকিত হৃদি ।
উচ্ছ্বাসের ভরে কন গিরিশে সম্বোধি ॥ ৮২ ॥
পদধূলি গ্রহণেতে কার্য কিবা ভার ।
এখন লইতে পারি রজ সবাকার ॥ ৮৩ ॥
এত বলি ভক্তদের পদ পরশিয়া ।
লইলা চরণ-রেণু মাথায় ধরিয়া ॥ ৮৪ ॥
মঙ্গল-নিদান প্রভু এখানে প্রমাণ ।
কেমনে সাধেন দেখ জীবের কল্যাণ ॥ ৮৫ ॥
সভক্তে শ্রীপদরেণু পরম মঙ্গল ।
লওয়াইলা ডাক্তারে করিয়া কৌশল ॥ ৮৬ ॥
চকিতের কার্য যত নরেন্দ্র দেখিয়া ।
ডাক্তারের প্রতি কন তাঁরে সম্ভাষিয়া ॥ ৮৭ ॥
বিস্ময়-আহলাদ-কুতূহল সমন্বিত ।
ইহাকে আমরা দেখি ঈশ্বরের মত ॥ ৮৮ ॥
সে কেমন বুঝাইতে কহিলেন পিছে ।
উদ্ভিদ শ্রেণীর মধ্যে হেন বস্তু আছে ॥ ৮৯ ॥
যেই বস্তু-দরশনে বুঝা নাহি যায় ।
উদ্ভিদ বলি কি আমি প্রাণী বলি তায় ॥ ৯০ ॥
তেন নরলোক দেবলোকের মাঝারে ।
হেন বস্তু আছে মোরা পাই দেখিবারে ॥ ৯১ ॥
যাঁর গুণধর্মদৃষ্টে বুঝা বড় ভার ।
নর কি ঈশ্বর নাম কিবা দিব তাঁর ॥ ৯২ ॥
প্রতিবাদে বৈজ্ঞানিক যত কথা কন ।
সব ভাসে বন্যাজলে কুটীর মতন ॥ ৯৩ ॥
পরে বৈজ্ঞানিক কন প্রভু পরমেশে ।
কি কারণ কহ তুমি ভাবের আবেশে ॥ ৯৪ ॥
ভাল মন্দ কিছু নাহি বিচার করিয়া ।
অপরের গায়ে দাও চরণ তুলিয়া ॥ ৯৫ ॥
এ কথায় গিরিশের সঙ্গে বাধে রণ ।
বাদ প্রতিবাদ দোঁহে হৈল কিছুক্ষণ ॥ ৯৬ ॥
অবশেষে বৈজ্ঞানিক হার মানি তাঁয় ।
গিরিশের পদধূলি লইলা মাথায় ॥ ৯৭ ॥
আজিকার সভা ভঙ্গ করি এইখানে ।
পুজ্যপাদ বৈজ্ঞানিক চলিলা ভবনে ॥ ৯৮ ॥
রামকৃষ্ণায়ন-কথা অমৃত-ভাণ্ডার ।
শ্রবণ-কীর্তনে জীবে ভবসিন্ধুপার ॥ ৯৯ ॥
সংসারের সুখে দুঃখে পেতে দিয়া ছাতি ।
এক মনে শুন মন রামকৃষ্ণ-পুঁথি ॥ ১০০ ॥